Home » Uncategorized » স্বালোকসংশ্লেষণ,এক্স-রে ও সৌরবিদ্যুৎ এর মধুর সম্পর্ক

স্বালোকসংশ্লেষণ,এক্স-রে ও সৌরবিদ্যুৎ এর মধুর সম্পর্ক


স্বালোকসংশ্লেষণঃ


http://scarky.com/widget/getiframe/PUN331S8/width=500&height=370

আপনারা নিশ্চয়ই অবাক হচ্ছেন স্বালোকসংশ্লেষণ সম্পর্কে লিখছি ঠিকাছে কিন্তু এখানে সৌরবিদ্যুৎ
আর এক্স-রে এল কিভাবে?? আছে ভাই সম্পর্ক আছে না থাকলে আমি বলতাম না। আপনারা নিশ্চয়ই
স্বালোকসংশ্লেষণ সম্পর্কে জানেন। তারপরও আরেকবার বলে রাখি।উদ্ভিদ সুর্যালোকের উপস্থিতে
কার্বন-ডাই-অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে যে শর্করা এবং শক্তি ও সেই সাথে আমাদের জীবন
দ্বানকারী অক্সিজেন উৎপাদন করে। নিচে বিক্রিয়াটি দেখুন:
6CO2+12H2O—–sunlight———————–→C6H12O6+6H2O+6O2
আপনারা নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন যে সোলার প্যানেল সুর্যালোকের উপস্থিতিতে শক্তি উৎপাদন
করে তা ব্যাটারী কোষে জমা রেখে আমাদের ব্যাবহার উপযোগী করে। দেখতে পাচ্ছেন তো এবার
সমন্বয়টা??এবার কী মনে প্রশ্ন জাগল না মনে যে আসলে দুটো প্রক্রিয়াই কি একই?? হুম আপনার সন্দেহ একদম
অমূলক নয়। আসলে আমাদের জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রায় অংশই কিন্তু প্রকৃতি থেকে ধার নেওয়া।তো আসুন
এবার কম্বিনেশনটা বের করে ফেলা যাক। আমরা যারা জীববিজ্ঞান সম্পর্কে নুন্যতম ধারণা রাখি
তারা জানি স্বালোকসংশ্লেষণ বা ফটোসিন্থেসিসের দুটি ধাপ আছে একটি আলোক পর্যায় অন্যটি
অন্ধকার পর্যায়।আলোক পর্যায়ে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রুপান্তরিত হয়। কিন্তু গাছের
ক্লোরোফিলের রঞ্জক পদার্থ একটি নির্দিষ্ট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলোতে সাঁড়া প্রদান করে। এআলোর
রেঞ্জ বা পাল্লা হচ্ছে ৬৭০ ন্যানোমিটার প্রায়। তাই আপনি যদি ভাবেন টর্চের আলোয়ও আপনি
গাছে স্বালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া চালাবেন তবে এ সংবাদটা আপনার জন্য হতাশাজনক।এবার নিশ্চয়ই
বুঝতে পারছেন উদ্ভিদ কেন রাতে চাঁদের আলোয় স্বালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে
পারে না!! ক্লোরোফিলে NADP+H+ সৃষ্টি করতে যে বিপুল পরিমাণ শক্তি সঞ্চিত হয় তা আমাদের
কাছে স্থিতি শক্তি হিসেবে প্রত্যক্ষ হয়।এভাবেই গাছপালা সুর্যের আলো হতে খাদ্য ও শক্তি উৎপাদন
করে। শক্তি গাছ নিজেকে বাচিঁয়ে রাখত্র এবং কার্বোহাইড্রেড প্রাণীর পুষ্টি সরবরাহে ব্যাবহৃত হয়।
সৌরবিদ্যুৎঃ

আমরা গ্রামের বাড়িতে গেলে প্রায়ই দেখছি বাড়ির উপর সোলার প্যানেল। দেখতে সাদা
প্যানেলের উপর কালো কালো ঘর করা। আমরা যারা একটু কৌতুহলী সকলেই জানি যে সৌরবিদ্যুতের
প্যানেলগুলোর উপর সিলিকনের প্রলেপ দেয়া আছে। সূর্য হতে বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো পৃথিবীতে
আপতিত হয়। তার মধ্যে কিছু তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো পৃথিবীতে এসে পৌছাঁয়। আমরা ম্যাক্সওয়েলের
আলোর তরঙ্গ ধর্ম সম্পর্কে জানি।আবার এও জানি যে আলো একই সাথে কণা এবং তরঙ্গ রূপে কাজ করে।
যখন সূর্যালোক থেকে উচ্চশক্তি সম্পন্ন ফোটন কণা পৃথিবীতে পতিত হয়। তখন উচ্চশক্তিসম্পন্ন ফোটন কণা
সিলিকনের ধাতব পাতকে সজোরে আঘাত করে ফলে সিলিকনের ভেতর পঞ্চযোজী ইলেক্ট্রনের
স্থানচুত্যি ঘটে এবং ধাতব তার দিয়ে বৈদ্যুতিক কোষে গিয়ে জমা হয়। আমরা পরবর্তীতে নিজেদের
সুবিধামত সঞ্চিত বিদ্যুৎ ব্যাবহার করি। এটি হচ্ছে এক্স-রে প্রসেস এর ঠিক বিপরীত। এবং
স্বালোকসংশ্লেষণের হুবহু অনূরূপ।স্বালোকস্বংশ্লেষনের সাথে এর মূল পার্থক্য হলো স্বালোকসংশ্লেষণ
ঘটে জৈবিক উপায়ে কিন্তু সৌরবিদ্যুতের ব্যাপারটি যান্ত্রিক।
এক্স-রেঃ

এক্সরে সম্পর্কে জানেন না এমন মানুষ খুবই কম আছেন। হাত ভাংলো তো এক্স-রে পা ভাংলো তাও
এক্স-রে। ডাক্তারের ধান্ধা তাও এক্স-রে। তো আসলে এই এক্স-রে এক প্রকার রশ্মি। এটি সৌরশক্তির
ঠিক বিপরীত প্রক্রিয়া। আমরা এক্স্-রে সহ বিভিন্ন রশ্মি থেকে শক্তি উৎপাদনের কথা জেনেছিলাম
কিন্তু এই সিস্টেমে ইলেক্ট্রন ধাতুকে আঘাত করে রশ্মি উৎপন্ন করে। যখন আয়নিত ক্যাথোড টিউবের
ভিতরে উচ্চ প্রবাহের বিদ্যুৎ চালনা করা হয় তখন ইলেকট্রন অতি উচ্চ গতিতে ৪৫ ডিগ্রী বাকাঁনো
ধাতবপাতকে আঘাত করে ফলে এক্স-রে নামক উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন রশ্মির উৎপত্তি হয়। আর দেখতেই তো
পেলেন কিভাবে স্বালোকসংশ্লেষণ, সৌরবিদ্যুত এবং এক্স-রের ভেতর নিবিড় সম্পর্ক স্থাপিত হলো।
আমি আম-আদমী মানুষ সামান্য জ্ঞান দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করেছি তাই না বুঝে থাকলে প্রশ্ন করুন।
এবং ভুলভ্রান্তির জন্য ক্ষমা করুন।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: